শিশুর কানে বাজা বা ইনফেকশনের লক্ষণ

শিশুর কানে বাজা বা ইনফেকশনের লক্ষণ

ছোট্ট সোনামণির হাসি মুখের দিকে তাকিয়ে থাকতেই মন ভরে যায়, তাই না? কিন্তু সেই হাসিতে যদি হঠাৎ বিষাদের ছায়া পড়ে, যদি দেখেন আপনার আদরের সন্তান কান্নাকাটি করছে, কানে হাত দিচ্ছে, তাহলে মনটা খারাপ লাগা স্বাভাবিক। শিশুদের কানে ব্যথা বা ইনফেকশন (কান পাকা) খুবই সাধারণ একটি সমস্যা, যা অনেক বাবা-মায়ের রাতের ঘুম কেড়ে নেয়। নবজাতক থেকে শুরু করে একটু বড় শিশু, যে কারোরই এই সমস্যা হতে পারে। তাই শিশুর কানে বাজা বা ইনফেকশনের লক্ষণগুলো সম্পর্কে আগে থেকে জেনে রাখাটা খুবই জরুরি। এতে দ্রুত রোগ নির্ণয় করে সঠিক চিকিৎসা শুরু করা যায়। আজকের ব্লগ পোস্টে আমরা শিশুর কানে ইনফেকশনের লক্ষণ, কারণ, ঘরোয়া প্রতিকার এবং কখন ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

শিশুদের কানে ইনফেকশন কেন হয়? কারণগুলো জেনে নিন

শিশুদের কান বড়দের তুলনায় একটু ভিন্ন হয়। তাদের Eustachian tube (ইউস্টেশিয়ান টিউব), যা কান এবং গলার মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে, সেটি ছোট এবং অনুভূমিক হওয়ায় ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের সংক্রমণ সহজে কানের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এছাড়াও আরও কিছু কারণ রয়েছে:

  • ঠান্ডা লাগা ও সর্দি: সাধারণ ঠান্ডা লাগা বা সর্দি থেকে অনেক সময় কানে ইনফেকশন হতে পারে। নাকের শ্লেষ্মা ইউস্টেশিয়ান টিউব দিয়ে কানে প্রবেশ করে সংক্রমণ ঘটায়।

  • অ্যালার্জি: কোনো খাবারে বা পরিবেশে অ্যালার্জি থাকলে কানে ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

  • দূষিত বাতাস: ধোঁয়া, দূষণ, বা সিগারেটের ধোঁয়া শিশুর কানের জন্য ক্ষতিকর।

  • বেশি বোতলে দুধ খাওয়ানো: শিশুকে শুইয়ে বোতলে দুধ খাওয়ালে দুধ কানের মধ্যে ঢুকে ইনফেকশন করতে পারে।

  • আশেপাশের সংক্রমণ: পরিবারের অন্য সদস্যদের যদি শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ থাকে, তাহলে শিশুরও আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

    শিশুর কানে ইনফেকশনের লক্ষণগুলো কী কী?

    শিশুর কানে ইনফেকশনের কিছু সাধারণ লক্ষণ রয়েছে যা দেখে বাবা-মায়েরা সহজেই বুঝতে পারেন। লক্ষণগুলো শিশুর বয়সের ওপর ভিত্তি করে ভিন্ন হতে পারে।

    নবজাতক ও ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে লক্ষণ:

  • অতিরিক্ত কান্নাকাটি করা (কান্নার কারণ খুঁজে না পাওয়া)।

  • কান টানা বা কানে হাত দেওয়া।

  • ঘুম কমে যাওয়া বা ঘুমাতে না চাওয়া।

  • খাবার খেতে না চাওয়া।

  • জ্বর (সব সময় নাও থাকতে পারে)।

  • বিরক্তি ভাব।

  • কান থেকে তরল নির্গত হওয়া (হলুদ বা সাদা)।

    একটু বড় শিশুদের ক্ষেত্রে লক্ষণ:

  • কানে ব্যথা হচ্ছে বলা।

  • শুনতে অসুবিধা হওয়া।

  • মাথা ঘোরা বা ভারসাম্য রাখতে সমস্যা হওয়া।

  • বমি বমি ভাব।

  • কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ হওয়া।

যদি আপনার শিশুর মধ্যে এই লক্ষণগুলো দেখতে পান, তাহলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

কানে ব্যথা হলে ঘরোয়াভাবে কী করবেন?

ডাক্তারের কাছে যাওয়ার আগে কিছু ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করে শিশুকে কিছুটা আরাম দেওয়া যেতে পারে। তবে মনে রাখবেন, এগুলো শুধুমাত্র প্রাথমিক উপশম দেবে, চিকিৎসার বিকল্প নয়।

  • গরম সেঁক: একটি পরিষ্কার কাপড় গরম পানিতে ভিজিয়ে নিংড়ে নিন। এরপর সেটি শিশুর কানের ওপর আলতো করে ধরুন। এতে ব্যথা কিছুটা কমতে পারে।

  • প্যারাসিটামল বা আইবুপ্রোফেন: ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল বা আইবুপ্রোফেন সিরাপ খাওয়াতে পারেন। এটি ব্যথা কমাতে সাহায্য করবে।

  • নাক পরিষ্কার রাখা: স্যালাইন ড্রপ দিয়ে শিশুর নাক পরিষ্কার রাখুন। এতে ইউস্টেশিয়ান টিউবের ওপর চাপ কমবে এবং কানের ভেতরের তরল বের হতে সাহায্য করবে।

  • প্রচুর তরল খাবার: শিশুকে প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার দিন, যেমন পানি, ফলের রস, স্যুপ ইত্যাদি।

    কখন ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে?

    যদিও ঘরোয়া উপায়ে কিছু ক্ষেত্রে আরাম পাওয়া যায়, তবে নিম্নলিখিত পরিস্থিতিতে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি:

  • শিশুর বয়স ৬ মাসের কম হলে।

  • জ্বর ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস) এর বেশি হলে।

  • কানের ব্যথা খুব বেশি হলে এবং ঘরোয়া উপায়ে কম না হলে।

  • কান থেকে তরল নির্গত হলে।

  • শিশুর শ্রবণশক্তিতে সমস্যা হলে।

  • যদি ২৪-৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অবস্থার উন্নতি না হয়।

ডাক্তার সাধারণত কান পরীক্ষা করে সংক্রমণ নির্ণয় করেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক বা ব্যথানাশক ওষুধ দেন। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক ডোজ এবং নিয়ম মেনে ওষুধ খাওয়ানো জরুরি।

শিশুর কানের সংক্রমণ প্রতিরোধে কিছু টিপস

কিছু সহজ উপায় অবলম্বন করে আপনার শিশুকে কানের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে পারেন:

  • নিয়মিত হাত ধোয়া: শিশুকে এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস করুন।

  • ধূমপান পরিহার: শিশুর আশেপাশে ধূমপান করা থেকে বিরত থাকুন।

  • শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ান: বুকের দুধ শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে।

  • বোতলে দুধ খাওয়ানোর সময় সাবধানতা: শিশুকে শুইয়ে বোতলে দুধ খাওয়ানো পরিহার করুন।

  • নিয়মিত টিকা: সময় মতো শিশুর সব টিকা দিন।

  • ঠান্ডা লাগা থেকে বাঁচান: ঠান্ডা লাগা বা ফ্লু থেকে শিশুকে নিরাপদে রাখার চেষ্টা করুন।

শিশুর সুস্থতা আপনার পরিবারের সুখের চাবিকাঠি। তাই শিশুর প্রতি যত্নবান হোন এবং কোনো সমস্যা হলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন। আমাদের কিডস স্টোরে আপনি আপনার শিশুর সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় অনেক পণ্য পাবেন। আপনার শিশুর জন্য স্বাস্থ্যকর এবং আনন্দদায়ক খেলনা, বই ও অন্যান্য সামগ্রী কিনতে আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করুন। সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন!

Subscribe to News
Comments(0)
No Comments Yet. Write First Comment.
Submit Comment
More Comments
Submit

আরো পড়তে পারেন

Subscribe to News