দাঁত ওঠার সময় খাবারে অনীহা: কী করবেন?

দাঁত ওঠার সময় খাবারে অনীহা: কী করবেন?

নবজাতকের হাসি, প্রথম আধো আধো বোল – প্রতিটি মুহূর্ত বাবা-মায়ের জন্য অমূল্য। কিন্তু এই আনন্দের মাঝে হঠাৎ করেই যদি দেখেন আপনার আদরের সন্তানটি খাবার মুখে নিতে চাইছে না, তাহলে চিন্তা হওয়া স্বাভাবিক। বিশেষ করে যখন দাঁত ওঠার সময় হয়, তখন অনেক শিশুই খাবারে অনীহা দেখায়। এই সময়টা বাবা-মায়ের জন্য বেশ কঠিন হতে পারে। কারণ, একদিকে বাচ্চার কষ্ট, অন্যদিকে প্রয়োজনীয় পুষ্টির অভাব নিয়ে উদ্বেগ। আজকের ব্লগ পোস্টে আমরা আলোচনা করব দাঁত ওঠার সময় শিশুদের খাবারে অনীহা কেন হয় এবং এই পরিস্থিতি সামাল দিতে আপনি কী কী করতে পারেন।

দাঁত ওঠার সময় কেন খাবারে অনীহা দেখা দেয়?

দাঁত ওঠা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, তবে এটি শিশুদের জন্য বেশ অস্বস্তিকর হতে পারে। সাধারণত ৬ মাস বয়স থেকে শিশুদের দাঁত ওঠা শুরু হয় এবং প্রায় ২-৩ বছর বয়স পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া চলতে থাকে। দাঁত ওঠার সময় শিশুদের মধ্যে খাবারে অনীহা দেখা দেওয়ার কয়েকটি প্রধান কারণ হল:

  • মাড়িতে ব্যথা ও অস্বস্তি: দাঁত ওঠার সময় মাড়ি ফুলে যায় এবং ব্যথা করে। এই কারণে শিশুরা চিবিয়ে খেতে অসুবিধা বোধ করে এবং খাবার থেকে দূরে থাকতে চায়।

  • মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া: দাঁতের ব্যথায় শিশুরা খিটখিটে হয়ে যায় এবং সহজে বিরক্ত হয়। এর প্রভাব খাবারের উপরও পরে।

  • ঘুমের অভাব: দাঁতের ব্যথার কারণে শিশুরা রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারে না। ঘুমের অভাবও খাবারে অনীহার একটি কারণ।

  • লালা নিঃসরণ: দাঁত ওঠার সময় শিশুদের মুখ থেকে প্রচুর লালা বের হয়। এর কারণে অনেক সময় বমি বমি ভাব হতে পারে এবং খাবারে অনীহা সৃষ্টি হতে পারে।

দাঁত ওঠার লক্ষণগুলো কী কী?

খাবারে অনীহা ছাড়াও দাঁত ওঠার সময় শিশুদের মধ্যে আরও কিছু লক্ষণ দেখা যায়। এই লক্ষণগুলো দেখে আপনি সহজেই বুঝতে পারবেন আপনার শিশু দাঁত ওঠার প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে:

  • মাড়ি ফোলানো ও লাল হয়ে যাওয়া
  • অতিরিক্ত লালা নিঃসরণ
  • চিবানোর প্রবণতা (আঙুল, খেলনা ইত্যাদি কামড়ানো)
  • মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া
  • ঘুমাতে অসুবিধা হওয়া
  • হালকা জ্বর (সব সময় নয়)
  • ডায়রিয়া (বিরল)

খাবারে অনীহা হলে কী করবেন? কিছু কার্যকরী টিপস:

দাঁত ওঠার সময় আপনার শিশু খাবারে অনীহা দেখালে ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে। এখানে কিছু টিপস দেওয়া হল, যা আপনাকে সাহায্য করতে পারে:

  • ঠান্ডা খাবার দিন: ঠান্ডা খাবার মাড়ির ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। ফ্রিজে রাখা ফল, সবজি অথবা দই শিশুকে খেতে দিন।

  • নরম খাবার বেছে নিন: এই সময় শক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। খিচুড়ি, নরম সবজি সেদ্ধ, ফলের পিউরি, সুজি – এই ধরনের খাবার শিশুর জন্য সহজপাচ্য হবে।

  • বারবার অল্প পরিমাণে খাবার দিন: একবারে বেশি খাবার না দিয়ে অল্প অল্প করে বারে বারে দিন। হয়তো ক্ষুধা না থাকলেও কয়েক চামচ খাবার সে সহজেই খেয়ে নেবে।

  • টিথিং টয় ব্যবহার করুন: টিথিং টয় (Teething Toy) শিশুদের মাড়ি চুলকাতে এবং ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। ভালো মানের টিথিং টয় কিনে দিন, যা শিশু কামড়ে আরাম পাবে।

  • মাড়ি ম্যাসাজ করুন: পরিষ্কার আঙুল দিয়ে আলতো করে শিশুর মাড়ি ম্যাসাজ করুন। এতে ব্যথা কমবে এবং আরাম পাবে।

  • ডাক্তারের পরামর্শ নিন: যদি ব্যথা খুব বেশি হয় বা অন্য কোনো জটিলতা দেখা দেয়, তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

  • ধৈর্য ধরুন: মনে রাখবেন, দাঁত ওঠা একটি অস্থায়ী প্রক্রিয়া। এই সময়টাতে শিশুর প্রতি আরও বেশি মনোযোগ দিন এবং ধৈর্য ধরে তার যত্ন নিন।

বয়স অনুযায়ী খাবারের তালিকা:

শিশুর বয়স অনুযায়ী তার খাবারের তালিকায় পরিবর্তন আনা জরুরি। দাঁত ওঠার সময় কোন বয়সের শিশুকে কেমন খাবার দেবেন, তার একটি তালিকা নিচে দেওয়া হল:

  • ৬-৮ মাস: এই সময় শিশুদের নরম খাবার দেওয়া শুরু করুন। যেমন – ফলের পিউরি (আপেল, কলা, পেঁপে), সবজির পিউরি (গাজর, মিষ্টি কুমড়া), সুজি, পাতলা খিচুড়ি ইত্যাদি।

  • ৮-১০ মাস: এই সময় খাবারের তালিকায় আরও কিছু নতুন খাবার যোগ করতে পারেন। যেমন – ডিম সেদ্ধ, মাছ সেদ্ধ, ডাল, নরম ভাত ইত্যাদি।

  • ১০-১২ মাস: এই সময় শিশুকে ছোট ছোট টুকরো করে খাবার দিন, যাতে সে নিজে ধরে খেতে পারে। যেমন – সবজি সেদ্ধ, ফলের টুকরো, নরম মাংসের কিমা ইত্যাদি।

কিছু ভুল ধারণা ও তার সমাধান:

দাঁত ওঠা নিয়ে অনেক বাবা-মায়ের মনে কিছু ভুল ধারণা থাকে। নিচে কয়েকটি সাধারণ ভুল ধারণা ও তার সমাধান দেওয়া হল:

  • ভুল ধারণা: দাঁত উঠলে সবসময় জ্বর হয়।

  • সমাধান: দাঁত উঠলে হালকা জ্বর হতে পারে, তবে সবসময় জ্বর হওয়াটা স্বাভাবিক নয়। যদি জ্বর বেশি হয় বা অন্য কোনো উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

  • ভুল ধারণা: দাঁত উঠলে ডায়রিয়া হয়।

  • সমাধান: দাঁত উঠলে ডায়রিয়া হওয়ার সম্ভাবনা কম। যদি ডায়রিয়া হয়, তাহলে এর অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে। এক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

  • ভুল ধারণা: দাঁত ওঠার সময় শিশুকে কিছুই খেতে দেওয়া উচিত না।

  • সমাধান: এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। দাঁত ওঠার সময় শিশুকে নরম ও সহজপাচ্য খাবার দিতে হবে, যাতে তার শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টি পৌঁছায়।

দাঁত ওঠার সময় শিশুর সঠিক যত্ন নেওয়া এবং তার প্রয়োজনগুলো বোঝা বাবা-মায়ের দায়িত্ব। এই সময়টাতে একটু বেশি মনোযোগ আর ভালোবাসা দিয়ে আপনার শিশুকে সুস্থ রাখতে পারেন।

আপনার আদরের সোনামণির জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছুই এখন হাতের কাছে। আমাদের ওয়েবসাইটে ভিজিট করুন এবং খুঁজে নিন আপনার শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় টিথিং টয় (Teething Toy), বেবি কেয়ার (Baby Care) পণ্য এবং স্বাস্থ্যকর খাবারের নানান অপশন। সুস্থ থাকুক আপনার শিশু, হাসি থাকুক সবসময়!

Subscribe to News
Comments(0)
No Comments Yet. Write First Comment.
Submit Comment
More Comments
Submit

আরো পড়তে পারেন

Subscribe to News