শিশুকে বেশি জুস খাওয়ানোর ক্ষতি
সন্তানের স্বাস্থ্য নিয়ে বাবা-মায়ের চিন্তা সবসময়। বাজারের বাহারি জুসের প্যাকেট দেখলে মনে হয়, এটা বুঝি সন্তানের জন্য দারুণ একটা পানীয়। কিন্তু সত্যিটা হল, অতিরিক্ত জুস শিশুর শরীরে উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করে। বিশেষ করে একদম ছোট শিশু, যাদের হজম ক্ষমতা দুর্বল, তাদের জন্য জুস কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে ভাবা দরকার। আসুন, আজ আমরা আলোচনা করি শিশুকে বেশি জুস খাওয়ানোর ক্ষতিকর দিকগুলো নিয়ে।
জুস মানেই কি স্বাস্থ্য? নাকি লুকিয়ে আছে বিপদ? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে, আমাদের জানতে হবে জুসের উপাদান এবং তা শিশুদের শরীরে কীভাবে প্রভাব ফেলে।
শিশুকে জুস দেওয়ার আগে কিছু জরুরি কথা
-
শিশুর বয়স ৬ মাস না হওয়া পর্যন্ত মায়ের বুকের দুধ অথবা ফর্মুলা মিল্কই যথেষ্ট। এই সময় জুস দেওয়া একেবারেই উচিত না।
-
দাঁত ওঠার আগে জুস দিলে দাঁতের এনামেল নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
-
বাড়িতে তৈরি জুসও পরিমিত পরিমাণে দেওয়া উচিত।
কেন শিশুকে বেশি জুস খাওয়ানো উচিত নয়?
শিশুকে বেশি জুস খাওয়ানোর পেছনে বেশ কিছু ক্ষতিকর দিক রয়েছে। সেগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
১. পুষ্টির অভাব:
জুসে ফাইবার (fiber) থাকে না বললেই চলে। ফলের মধ্যে থাকা ফাইবার হজমের জন্য খুব দরকারি। ফাইবার ছাড়া শুধু জুস খেলে পেট ভরে যায়, কিন্তু প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও মিনারেলস (vitamins and minerals) শরীর পায় না। ফলে, শিশু অপুষ্টিতে ভুগতে পারে।
২. দাঁতের সমস্যা:
জুসে প্রচুর পরিমাণে চিনি থাকে। এই চিনি দাঁতের সঙ্গে লেগে থেকে ব্যাকটেরিয়ার জন্ম দেয়, যা দাঁতের এনামেল (enamel) নষ্ট করে দেয় এবং দাঁতে ক্যাভিটি (cavity) সৃষ্টি করে। ছোট শিশুদের দাঁত খুব নরম হওয়ায় ক্ষতির সম্ভাবনা বেশি।
৩. ওজন বৃদ্ধি ও ডায়াবেটিস:
অতিরিক্ত জুস খেলে শরীরে ক্যালোরির (calorie) পরিমাণ বেড়ে যায়, যা ওজন বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়া, রক্তে শর্করার (sugar) মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণে ভবিষ্যতে ডায়াবেটিসের (diabetes) ঝুঁকিও বাড়ে।
৪. হজমের সমস্যা:
জুসে থাকা ফ্রুক্টোজ (fructose) নামক সুগার শিশুদের হজম করতে অসুবিধা হতে পারে। এর ফলে পেটে ব্যথা, গ্যাস, এমনকি ডায়রিয়াও হতে পারে।
৫. ক্ষুধামন্দা:
জুস খেলে পেট ভরে থাকার কারণে শিশুরা অন্য খাবার খেতে চায় না। ফলে, শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হয় এবং ধীরে ধীরে ক্ষুধামন্দা দেখা দেয়।
শিশুকে জুসের পরিবর্তে কী দেওয়া যেতে পারে?
জুসের পরিবর্তে স্বাস্থ্যকর কিছু বিকল্প খাবার বেছে নিতে পারেন। এখানে কয়েকটি বিকল্প দেওয়া হলো:
-
ফল: জুসের চেয়ে ফল অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর। ফলে ফাইবার, ভিটামিন ও মিনারেলস থাকে ভরপুর। আপেল, কলা, পেয়ারা, কমলালেবু ইত্যাদি ফল শিশুদের জন্য খুব উপকারী।
-
সবজি: গাজর, শসা, টমেটো ইত্যাদি সবজি সরাসরি অথবা হালকা সেদ্ধ করে শিশুদের খাওয়াতে পারেন।
-
ডাবের জল: ডাবের জল একটি প্রাকৃতিক পানীয়। এতে প্রচুর পরিমাণে মিনারেলস ও ইলেকট্রোলাইট (electrolyte) থাকে, যা শিশুদের শরীরকে ঠান্ডা রাখে এবং ডিহাইড্রেশন (dehydration) থেকে রক্ষা করে।
-
ঘরে তৈরি শরবত: চিনি ছাড়া ফলের শরবত তৈরি করে দিতে পারেন। তবে অবশ্যই পরিমাণটা অল্প হতে হবে।
-
পানি: শিশুদের জন্য সবচেয়ে জরুরি পানীয় হল পানি। ৬ মাস বয়সের পর থেকে অল্প অল্প করে পানি খাওয়ানোর অভ্যাস করুন।
জুস দেওয়ার সঠিক নিয়ম
যদি একান্তই জুস দিতে চান, তাহলে কিছু নিয়ম মেনে চলা উচিত:
-
কমলার জুস: ভিটামিন সি (vitamin C) এর উৎস হওয়ায় কমলার জুস শিশুদের জন্য উপকারী, তবে অবশ্যই তা অল্প পরিমাণে দিতে হবে।
-
আপেলের জুস: আপেলের জুস হজম ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে, কিন্তু বেশি দিলে পেটে গ্যাস হতে পারে।
-
মিশ্র ফলের জুস: বিভিন্ন ফল মিশিয়ে জুস তৈরি করলে শিশুরা অনেক ভিটামিন ও মিনারেলস একসঙ্গে পেতে পারে।
জুস দেওয়ার সময় যে বিষয়গুলো মনে রাখতে হবে:
-
সবসময় তাজা ফল দিয়ে জুস তৈরি করুন।
-
জুসের সঙ্গে পানি মিশিয়ে পাতলা করে দিন।
-
শিশুকে অল্প পরিমাণে জুস দিন।
-
খাবার খাওয়ার মাঝে জুস না দিয়ে, খাবারের পরে দিন।
অভিজ্ঞ ডাক্তারদের পরামর্শ
শিশুরোগ বিশেষজ্ঞরা বলেন, "জুসের চেয়ে ফল খাওয়ানো সবসময় ভালো। কারণ, ফলে থাকা ফাইবার হজম ক্ষমতা বাড়ায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য (constipation) দূর করে।" তাই, শিশুকে জুস দেওয়ার আগে অবশ্যই একজন ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
আপনার শিশুর সুস্থ ভবিষ্যৎ-এর জন্য সঠিক খাদ্যাভ্যাস খুবই জরুরি। আমাদের ওয়েবসাইটে আপনি আপনার শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যকর খাবার, খেলনা এবং অন্যান্য দরকারি জিনিস খুঁজে পাবেন। আজই ভিজিট করুন এবং আপনার সন্তানের জন্য সেরা জিনিসটি বেছে নিন।

