শীতকালে বাইরে হাঁটাতে নিয়ে যাওয়ার সময় করণীয়
শীতকাল মানেই যেন একটা উৎসবের আমেজ। চারদিকে পিঠা পুলির সুগন্ধ, আর কুয়াশার চাদরে মোড়া সকালগুলো দেখতে কার না ভালো লাগে? কিন্তু ছোট বাচ্চাদের বাবা-মায়েদের জন্য শীতকাল একটু বাড়তি সতর্কতা নিয়ে আসে। বিশেষ করে, যখন আদরের সোনাকে নিয়ে একটুখানি বাইরে ঘুরতে বেরোতে হয়, তখন চিন্তা যেন কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ঠান্ডা লাগার ভয়, ত্বকের শুষ্কতা, আরও কত কী! তবে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। একটুখানি পরিকল্পনা আর কিছু জরুরি জিনিস হাতের কাছে রাখলে শীতকালেও আপনার সোনামণিকে নিয়ে নিশ্চিন্তে বাইরে ঘুরে আসা সম্ভব। এই ব্লগ পোস্টে আমরা আলোচনা করব, শীতকালে বাচ্চাদের বাইরে হাঁটাতে নিয়ে যাওয়ার সময় কী কী বিষয় মাথায় রাখা উচিত।
শীতকালে বাচ্চাদের বাইরে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা
অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, শীতকালে বাচ্চাকে বাইরে নিয়ে যাওয়া কি আদৌ জরুরি? হ্যাঁ, অবশ্যই!
-
ভিটামিন ডি এর অভাব পূরণ: সূর্যের আলো ভিটামিন ডি এর প্রধান উৎস। শীতকালে রোদ কম থাকায় অনেক বাচ্চার শরীরেই ভিটামিন ডি এর অভাব দেখা যায়। তাই অল্প সময়ের জন্য হলেও বাচ্চাকে রোদে নিয়ে যাওয়া জরুরি।
-
শারীরিক ও মানসিক বিকাশ: বাইরে খেলাধুলা করলে বাচ্চাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ দ্রুত হয়। নতুন কিছু দেখলে, নতুন শব্দ শুনলে তাদের মস্তিষ্কের উদ্দীপনা বাড়ে।
-
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি: শীতকালে নিয়মিত বাইরে গেলে বাচ্চাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। শীতের আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারলে তারা সহজে অসুস্থ হয় না।
-
একঘেয়েমি দূর: সারাক্ষণ ঘরের মধ্যে বন্দি থাকলে বাচ্চাদের মধ্যে একঘেয়েমি চলে আসে। বাইরে ঘুরতে গেলে তারা নতুন কিছু দেখে আনন্দ পায় এবং মন ভালো থাকে।
শীতের শুরুতে প্রস্তুতি: কী কী মাথায় রাখবেন?
শীতকালে বাচ্চাকে বাইরে নিয়ে যাওয়ার আগে কিছু প্রস্তুতি নেওয়া দরকার। এই প্রস্তুতি আপনাকে এবং আপনার বাচ্চাকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করবে।
-
আবহাওয়া সম্পর্কে জেনে নিন: বাইরে বেরোনোর আগে আবহাওয়ার পূর্বাভাস জেনে নিন। অতিরিক্ত ঠান্ডা, কুয়াশা বা বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলে বাইরে না যাওয়াই ভালো। হালকা রোদ ঝলমলে দিন বাচ্চাদের জন্য উপযুক্ত।
-
পোশাক নির্বাচন: শীতের পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় মনে রাখতে হবে:
-
লেয়ারিং: বাচ্চাদের শরীর গরম রাখার জন্য লেয়ারিং করে পোশাক পরান। প্রথমে একটি সুতির পোশাক, তারপর একটি গরম জামা এবং সবশেষে জ্যাকেট বা সোয়েটার পরান।
-
উলের পোশাক: উলের পোশাক শরীর গরম রাখতে খুব উপযোগী। তবে খেয়াল রাখবেন উলের পোশাকে বাচ্চার ত্বকে অ্যালার্জি হচ্ছে কিনা।
-
মোজা ও টুপি: বাচ্চাদের হাত ও পায়ের পাতা এবং মাথা ভালোভাবে ঢেকে রাখুন। উলের মোজা ও টুপি ব্যবহার করতে পারেন।
-
স্কার্ফ: গলার সুরক্ষার জন্য স্কার্ফ ব্যবহার করুন।
-
ত্বকের যত্ন: শীতকালে বাচ্চাদের ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। তাই বাইরে বেরোনোর আগে এবং পরে ভালো করে ময়েশ্চারাইজার লাগান। ঠোঁটের জন্য লিপ বাম ব্যবহার করতে পারেন।
-
সানস্ক্রিন: শীতকালে রোদ কম থাকলেও সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। তাই বাইরে বেরোনোর আগে বাচ্চাদের ত্বকে সানস্ক্রিন লাগান।
-
সঙ্গে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র: বাইরে বেরোনোর সময় কিছু জরুরি জিনিস সাথে রাখুন:
-
অতিরিক্ত পোশাক
-
টিস্যু পেপার বা ভেজা কাপড়
-
হ্যান্ড স্যানিটাইজার
-
পানির বোতল
-
ছোট্ট স্ন্যাকস (বিস্কুট, ফল ইত্যাদি)
-
বেবির ডায়াপার ও ওয়াইপস
-
ফার্স্ট এইড কীট (ব্যান্ডেজ, অ্যান্টিসেপটিক)
বয়স অনুযায়ী সতর্কতা: ০-৫ বছর বয়সী বাচ্চাদের জন্য বিশেষ টিপস
বাচ্চাদের বয়স অনুযায়ী তাদের প্রয়োজন ভিন্ন হয়। তাই বয়স অনুযায়ী কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।
০-৬ মাস বয়সী বাচ্চা:
- এই বয়সের বাচ্চাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে। তাই খুব বেশি প্রয়োজন না হলে তাদের বাইরে না নিয়ে যাওয়াই ভালো।
- যদি নিয়ে যেতে হয়, তবে অবশ্যই ভালোভাবে ঢেকে নিয়ে যান।
- সরাসরি ঠান্ডা বাতাস যেন না লাগে সেদিকে খেয়াল রাখুন।
- দীর্ঘ সময় ধরে বাইরে না রেখে অল্প সময়ের জন্য ঘুরিয়ে আনুন।
৬-১২ মাস বয়সী বাচ্চা:
- এই বয়সের বাচ্চারা হামাগুড়ি দিতে বা বসতে শুরু করে। তাদের খেলার জন্য সুরক্ষিত জায়গা বেছে নিন।
- ঠান্ডা মেঝেতে বসতে দেবেন না।
- তাদের হাতে সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন।
১-৩ বছর বয়সী বাচ্চা (টডলার):
- এই বয়সের বাচ্চারা দৌড়াদৌড়ি করতে ভালোবাসে। তাদের খেলার জন্য যথেষ্ট জায়গা দিন।
- তাদের উপর সবসময় নজর রাখুন, যাতে তারা কোনো അപകടের শিকার না হয়।
- বাইরে খেলার পর তাদের হাত-পা ভালোভাবে ধুয়ে দিন।
৩-৫ বছর বয়সী বাচ্চা:
-
এই বয়সের বাচ্চারা অন্যদের সাথে মিশতে ও খেলতে ভালোবাসে। তাদের খেলার সুযোগ দিন।
-
তাদেরকে শীতের পোশাকের গুরুত্ব সম্পর্কে বোঝান।
-
বাইরে খেলাধুলার পাশাপাশি তাদের বই পড়তে উৎসাহিত করুন।
শীতকালে বাচ্চাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর উপায়
শীতকালে বাচ্চাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। তাই তাদের সুস্থ রাখতে কিছু বাড়তি যত্ন নেওয়া প্রয়োজন।
-
ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার: বাচ্চাদের খাদ্য তালিকায় ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার যোগ করুন। যেমন – কমলা, মাল্টা, পেয়ারা, আমলকি ইত্যাদি।
-
প্রোটিন: ডিম, দুধ, মাছ, মাংস, ডাল ইত্যাদি প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার বাচ্চাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
-
পর্যাপ্ত ঘুম: বাচ্চাদের প্রতিদিন ৮-১০ ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন। পর্যাপ্ত ঘুম তাদের শরীরকে রোগ প্রতিরোধের জন্য প্রস্তুত করে তোলে।
-
নিয়মিত ব্যায়াম: খেলাধুলা বা হালকা ব্যায়াম বাচ্চাদের শরীরকে সচল রাখে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
-
হাইড্রেটেড রাখা: শীতকালে বাচ্চারা কম পানি পান করতে চায়। তাই তাদের শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে স্যুপ, ফলের রস, এবং পর্যাপ্ত পানি পান করান।
কিছু জরুরি টিপস
-
বাচ্চাকে বাইরে নিয়ে যাওয়ার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন, বিশেষ করে যদি বাচ্চার কোনো শারীরিক সমস্যা থাকে।
-
ঠান্ডা লাগলে বাচ্চার ঘরোয়া চিকিৎসা করুন এবং দ্রুত ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।
-
বাচ্চাদের পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন এবং তাদের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে শিক্ষা দিন।
-
শীতকালে বাচ্চাদের মন ভালো রাখতে তাদের সাথে গল্প করুন, গান শোনান এবং মজার মজার খেলা খেলুন।
শীতকাল শিশুদের জন্য আনন্দের সময়। সঠিক পরিকল্পনা ও সতর্কতা অবলম্বন করে আপনিও আপনার সোনামণিকে নিয়ে শীতের এই আনন্দ উপভোগ করতে পারেন। আমাদের কিডস স্টোরে আপনি পাবেন আপনার বাচ্চার জন্য প্রয়োজনীয় সকল শীতের পোশাক, খেলনা এবং অন্যান্য দরকারি জিনিস। আপনার শিশুর সুস্থ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ আমাদের কাম্য। তাই আজই ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইটে এবং বেছে নিন আপনার প্রিয় পণ্যটি। এছাড়াও, আপনার বাচ্চার জন্য আরও স্বাস্থ্যকর এবং শিক্ষামূলক খেলনা ও বইয়ের জন্য আমাদের ওয়েবসাইটে চোখ রাখুন। সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন!

