গলা শুকিয়ে গেলে শিশুর কেয়ার

গলা শুকিয়ে গেলে শিশুর কেয়ার: নবজাতক থেকে শুরু করে বড় বাচ্চাদের জন্য দরকারী কিছু টিপস

সন্তান জন্মের পর থেকে প্রতিটি বাবা-মায়ের একটাই চিন্তা থাকে, কিভাবে তার সন্তান সুস্থ ও ভালো থাকবে। ছোট শিশুরা নিজেদের সমস্যার কথা সরাসরি বলতে পারে না। তাই তাদের দিকে সবসময় খেয়াল রাখাটা খুব জরুরি। বিশেষ করে, শিশুর গলা শুকিয়ে গেলে বা ডিহাইড্রেশন হলে তা বাবা-মায়ের জন্য একটা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কারণ, ডিহাইড্রেশন শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হতে পারে। আজকের ব্লগ পোস্টে আমরা আলোচনা করব, কেন শিশুদের গলা শুকিয়ে যায়, এর লক্ষণগুলো কী কী, এবং এই অবস্থায় আপনার আদরের সন্তানের যত্ন কিভাবে নেবেন। নবজাতক, টডলার এবং একটু বড় বাচ্চাদের জন্য আলাদা আলাদা টিপস ও পরামর্শ দেওয়া হবে, যা আপনার সন্তানের সুস্থ জীবন নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে।

শিশুর ডিহাইড্রেশন বা গলা শুকিয়ে যাওয়ার কারণ

শিশুদের শরীর খুব দ্রুত ডিহাইড্রেটেড হয়ে যেতে পারে। এর কিছু সাধারণ কারণ নিচে উল্লেখ করা হলো:

  • ডায়রিয়া ও বমি: শিশুদের ডায়রিয়া এবং বমি হলে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে তরল বেরিয়ে যায়। এটি ডিহাইড্রেশনের প্রধান কারণ।

  • পর্যাপ্ত পরিমাণে তরল গ্রহণ না করা: অনেক সময় শিশুরা যথেষ্ট পরিমাণে পানি বা তরল খাবার খেতে চায় না। বিশেষ করে গরমে বা অসুস্থতার সময়ে এটা বেশি দেখা যায়।

  • অতিরিক্ত গরম: গরম আবহাওয়ায় শিশুদের শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে অনেক পানি বেরিয়ে যায়।

  • সংক্রমণ: বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ, যেমন – শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ বা মূত্রনালীর সংক্রমণ (Urinary Tract Infection) ডিহাইড্রেশন ঘটাতে পারে।

  • বেশি জ্বর: জ্বরের কারণে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে গেলে ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি বাড়ে।

    ডিহাইড্রেশনের লক্ষণগুলো কী কী?

    ডিহাইড্রেশনের লক্ষণগুলো জানা থাকলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়। বয়সভেদে লক্ষণগুলো ভিন্ন হতে পারে।

    নবজাতকদের ক্ষেত্রে লক্ষণ:

  • মুখ ও জিহ্বা শুকনো থাকা।

  • চোখ ভেতরের দিকে ঢুকে যাওয়া।

  • ডায়াপার কম ভেজা (দিনে ৬-৮ বার ভেজা উচিত)।

  • ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা কমে যাওয়া (ত্বক টিপে ছাড়লে দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরে না আসা)।

  • তালু দেবে যাওয়া (Fontanelle)।

    টডলার ও বড় বাচ্চাদের ক্ষেত্রে লক্ষণ:

  • মুখ ও গলা শুকিয়ে যাওয়া।

  • খুব কম প্রস্রাব করা বা প্রস্রাবের রং গাঢ় হলুদ হওয়া।

  • মাথাব্যথা ও দুর্বল লাগা।

  • চোখের নিচে কালি পড়া।

  • কান্না করলে চোখে জল না আসা।

  • বিরক্তি বা অস্থিরতা।

    গলা শুকিয়ে গেলে শিশুদের যত্ন কিভাবে নেবেন?

    ডিহাইড্রেশন বা গলা শুকিয়ে গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। নিচে বয়স অনুযায়ী কিছু টিপস দেওয়া হলো:

    নবজাতক (০-৬ মাস):

  • বুকের দুধ: নবজাতকের জন্য বুকের দুধের বিকল্প নেই। চাহিদা অনুযায়ী বার বার বুকের দুধ দিন।

  • ফর্মুলা দুধ: যদি বুকের দুধ পর্যাপ্ত না হয়, তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ফর্মুলা দুধ দিতে পারেন।

  • ওআরএস (ORS): ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া এই বয়সে ওআরএস দেওয়া উচিত নয়।

    ৬ মাস থেকে ১ বছর:

  • বুকের দুধ বা ফর্মুলা দুধ: এই সময় বুকের দুধের পাশাপাশি অন্যান্য খাবার শুরু করা যায়। তবে বুকের দুধ বা ফর্মুলা দুধ চালিয়ে যেতে হবে।

  • পানি: অল্প অল্প করে মাঝে মাঝে পানি দিন।

  • ফলের রস: আপেল বা আঙুরের রস (ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী) দেওয়া যেতে পারে।

  • ওআরএস (ORS): ডায়রিয়া বা বমি হলে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওআরএস দিতে পারেন।

    ১ বছর থেকে তার বেশি:

  • পানি: পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে উৎসাহিত করুন।

  • ফলের রস ও শরবত: তাজা ফলের রস, ডাবের জল, এবং ঘরে তৈরি শরবত দিন।

  • স্যুপ: সবজির স্যুপ বা চিকেন স্যুপ শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে।

  • ওআরএস (ORS): ডায়রিয়া বা বমি হলে অবশ্যই ওআরএস দিন।

    কিছু অতিরিক্ত টিপস:

  • শিশুকে অল্প অল্প করে বার বার তরল দিন। একবারে বেশি তরল দিলে বমি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

  • গরমের দিনে শিশুকে হালকা ও আরামদায়ক পোশাক পরান।

  • শিশুকে ছায়াযুক্ত স্থানে রাখুন এবং সরাসরি সূর্যের আলো এড়িয়ে চলুন।

  • নিয়মিত বিরতিতে শিশুকে তরল খাবার দিন, এমনকি যদি সে খেতে না চায় তাহলেও।

  • শিশুকে বেশি দৌড়াদৌড়ি বা খেলাধুলা থেকে বিরত রাখুন, যাতে শরীর থেকে বেশি ঘাম না বের হয়।

    কখন ডাক্তার দেখাবেন?

    ডিহাইড্রেশনের লক্ষণ দেখা গেলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। নিম্নলিখিত লক্ষণগুলো দেখলে জরুরি ভিত্তিতে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে:

  • শিশু একেবারে নিস্তেজ হয়ে গেলে।

  • শ্বাস নিতে কষ্ট হলে।

  • প্রস্রাব একেবারে বন্ধ হয়ে গেলে।

  • খিঁচুনি হলে।

  • তলপেটে ব্যথা হলে।

  • ঘন ঘন বমি হলে।

শিশুর সুস্থতা আপনার হাতে। সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নিলে আপনার সন্তানকে ডিহাইড্রেশনের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব। আমাদের কিডস স্টোরে আপনি আপনার শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় অনেক কিছুই পাবেন। আপনার শিশুর জন্য স্বাস্থ্যকর পানীয়ের বোতল, নরম আরামদায়ক পোশাক এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দরকারি পণ্য কিনতে আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করুন। সুস্থ থাকুক আপনার আদরের সন্তান।

Subscribe to News
Comments(0)
No Comments Yet. Write First Comment.
Submit Comment
More Comments
Submit

আরো পড়তে পারেন

Subscribe to News